ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রতি ওয়ার্ডে কমিটি করার নির্দেশ

ভিডিও কনফারেন্সে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম মতবিনিময়

স্টাফ রিপোর্টার: ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার মাধ্যমে দেশে সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালযুক্ত হয়ে জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি এসব মন্তব্য করেছেন। দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট ও মানুষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির অপতৎপরতা বন্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি/সরকারি কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী বলেন, যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ধর্মের মধ্যে বিভেদ ও উগ্রবাদ তৈরি করে দেশে অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে, তাদেরকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারসহ তৃণমূল নেতাকর্মী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সব ধর্মের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করতে হবে। সমাজের মধ্যে কারা বিভিন্ন অপকর্ম, অপপ্রচার চালায় তাদেরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এই কমিটি কাজ করবে বলে জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক-ডিডিএলজি) সাজিয়া আফরীন ও ভার্চুয়ালযুক্ত হন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামসুল আবেদীন খোকন। চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, আলমডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন, জীবননগর উপজেলা চেয়ারম্যান হাজি হাফিজুর রহমান, আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, দর্শনা পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, গড়াইটুপি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান রাজু, জেলা পরিষদ সদস্য শহিদুল ইসলাম শাহান, মাফলুকাতুর রহমান সাজু, খলিলুর রহমান, শফিউল কবীর ইউসুফ, আবু মুসা, মুসাবুল ইসলাম লিটন, শফিকুল আলম নান্নু, মিজানুর রহমান, নুরুন্নাহার কাকলি, হাছিনা খাতুন, কাজল রেখা, তানিয়া বেগম ও মিতা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। ভিডিও কনফারেন্স সঞ্চালনা করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিতে হবে উল্লেখ করে মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং জনগণের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টির জন্য একটি মহল অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক অবস্থানে থেকে এসব দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। হিন্দু-মুসলিমকে মুখোমুখি করে কেউ যাতে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে। মসজিদ-মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে নজর রাখতে হবে, যাতে কেউ সুযোগ না নিতে পারে, সেদিকে সব জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সব সিটি করপোরেশনের মেয়র, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ডিডিএলজি, জেলা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনলাইনে যুক্ত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের ঐক্যবদ্ধ করে সব সমস্যা মোকাবিলায় অনুপ্রেরণা ও সচেষ্ট করার জন্য সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More