বকশিশ কম পেয়ে অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন : ছটফট করে রোগীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার: পঞ্চাশ টাকা বকশিশ কম দেয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেয়ায় বিকাশ চন্দ্র (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের তৃতীয়তলায় সার্জারি বিভাগে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বজন চড়াও হলে আনসারদের সহযোগিতায় আসাদুজ্জামান মীর ধুলু নামে ওই কর্মচারী পালিয়ে যায়।
সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বুধবার সকালে এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বকশিশ কম দেয়ায় হাসপাতালের খ-কালীন কর্মচারী এ অপরাধ করেছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শজিমেকের উপপরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ বলেন, জরুরি বিভাগের একজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন। অভিযোগের সততা পেলে খ-কালীন কর্মচারী ধুলুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিকেল ৫টায় মামলা হয়নি। পরিবারের লোকজন বিকাশের লাশ নিয়ে গেছে।
পুলিশ ও স্বজনরা বলেন, বিকাশ চন্দ্র গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শেয়াল কুন্ডি গ্রামের বিশু চন্দ্র কর্মচারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে পড়তো। সংসারে অভাবের কারণে বিকাশ লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। সে বাইসাইকেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তাকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাত ১০টায় বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিকাশের কাকা শচীন চন্দ্র কর্মকার বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কাজ শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অক্সিজেনসহ ভাতিজাকে তৃতীয়তলায় সার্জারি বিভাগে নেয়া হয়। ট্রলি বহনকারী হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান ধুলু বেডে পৌঁছে দেয়ার পর ২০০ টাকা বকশিশ দাবি করে। বিকাশের বাবার কাছে থাকা ১৫০ টাকা দিলে ধুলু আরও ৫০ টাকার জন্য বাগবিত-া শুরু করেন। টাকা দিতে না পারায় ক্ষুব্ধ ধুলু অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে। তাকে মাস্ক লাগাতে অনুরোধ করলে সে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে নিজেরা মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশ মারা যায়। চিকিৎসক এসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় রোগীর লোকজন ধুলুর ওপর চড়াও হলে কর্তব্যরত আনসারদের সহযোগিতায় সে পালিয়ে যায়। ধুলুর বাবার নাম জয়েন উদ্দিন মীর। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কুমুরিয়া ডাঙ্গা গ্রামের তার বাড়ি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More