কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ছেলে : বাবা মৃত্যুশয্যায়

জীবননগর ব্যুরো: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় কিশোর ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন বাবা। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার পাথিলা কৃষি খামারের নারকেল বাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর মানিক হোসেন (১২) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের পোড়াপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র।
অপরদিকে ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মানিকের পিতা বাবলুর রহমান। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার সময় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাবলুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিলো।
এদিকে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত মানিক হোসেনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে দেয়া হয়। মানিক হোসেনের লাশ নিজ গ্রাম পোড়াপাড়ায় পৌঁছুলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশসূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকালে পোড়াপাড়া গ্রামের মৃত আবদার সর্দ্দারের ছেলে বাবলুর রহমান (৪৫) এবং তার ছেলে মানিক হোসেন পাখিভ্যানযোগে (ব্যাটারিচালিত) নিজ বাড়ি থেকে জীবননগরে সাপ্তাহিক হাটে যাচ্ছিলেন। তারা সকাল ৭টার দিকে জীবননগর-দত্তনগর সড়কের দত্তনগর কৃষি খামারের পাথিলা বীজ উৎপাদন খামারের নারকেল বাগানের সামনে পৌঁছুলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যান তাদের ধাক্কা দেয়। এতে পাখিভ্যানের ওপর থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে ছেলে মানিক হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং দুর্ঘটনায় বাবা বাবলুর রহমান গুরুতর আহত হন। এসময় স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় বাবলুর রহমানকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে তাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিহত মানিক হোসেনের লাশ উদ্ধার করে জীবননগর থানায় নেয়।
জীবননগর থানার ওসি মো. আব্দুল খালেক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানিক হোসেনের লাশ উদ্ধার করে জীবননগর থানায় নেয়া হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মানিকের লাশ তার নিটকজনের কাছে দেয়া হয়। এছাড়া বাবলুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More