কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জনের মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ১৪ জন। গত রোববার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। এদের মধ্যে করোনায় আটজন এবং ছয়জন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০ শয্যার করোনা ইউনিটে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন ২৬৮ জন। এর মধ্যে করোনা নিয়ে এ পর্যন্ত ভর্তি রয়েছেন ১৯৪ জন। এ ছাড়া উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৭৪ জন। এদিকে নতুন ১ হাজার ২৭ নমুনা পরীক্ষা করে ২৭৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪১ জনে। শনাক্ত ২৭৭ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৫৮২ জনে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। নতুন করে শনাক্ত হওয়া ২৭৭ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরের ১২৬ জন, দৌলতপুরের ৪১ জন, কুমারখালীর ৭২ জন, ভেড়ামারার ২৩ জন, মিরপুরের আটজন ও খোকসার সাতজন রয়েছেন। এখন পর্যন্ত জেলায় ৭২ হাজার ৬১০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে ৬৯ হাজার ২০২ জনের। মোট শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩৪১ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৬৬৮ জন। বর্তমানে কুষ্টিয়ায় সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৫৭৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৬৬ জন ও হোম আইসোলেশনে আছেন ৩ হাজার ৩০৭ জন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এম এ মোমেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের মরদেহ দাফনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার নতুন স্টেইন ছড়িয়ে পড়ায় একজনের দ্বারা অনেক লোক আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসককে আরও কঠোর হতে হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণার পর থেকে রোগীর চাপ বাড়তেই আছে। প্রযয়োজনের তুলনায় লোকবল কম। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাবে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More