রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্বে ৪ মাস ঘরবন্দি একটি পরিবার

বিচার সালিস দিয়ে কোনো ফল পাননি ভুক্তভোগীরা

দর্শনা অফিস: দর্শনায় পৌরসভার রাস্তায় জোরপূর্বক ইটের পাঁচিল নির্মাণ করে চার মাস ধরে একটি পরিবারকে ঘরবন্দি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে এলাকার ফজলু মিয়ার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার সালিস দিয়ে কোনো ফল পাননি ভুক্তভোগীরা। গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দুদিন পাঁচিল ও টিনের বেড়া অপসারণ করতে নির্দেশনা দিলেও এখনও অপসারণ করেননি প্রভাবশালী ফজলু মিয়া। তবে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দামুড়হুদা কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে ফজলু মিয়াকে। ফজলু মিয়ার নামে ঢাকা মিরপুর থানা, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা, দামুড়হুদা মডেল থানাসহ মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাঁচটি মামলা আছে বলে জানায় পুলিশ।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, দর্শনা পৌরসভার দক্ষিণ চাঁদপুর এলাকার জুম্মাপাড়ার মৃত মইজ উদ্দীনের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২)। তিনি পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। দর্শনা পৌরসভা হওয়ার পর প্রায় ৩০ বছর আগে পৌর কর্তৃপক্ষ ইটের রাস্তা করে দর্শনা-হিজলগাড়ী মহাসড়ক পর্যন্ত। এই দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছে এলাকার সাধারণ মানুষ।

গত ১০ অক্টোবর ২০২১ দক্ষিণ চাঁদপুর একই পাড়ার মৃত করিম ম-লের ছেলে এলাকার প্রভাবশালী মো. ফজলু মিয়ার (৫০) সঙ্গে জাহাঙ্গীরের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ কারণে প্রভাবশালী ফজলু মিয়া জোরপূর্বক তার বাড়ি সীমানা দিয়ে দর্শনা পৌরসভার রাস্তার ওপর দিয়ে ইটের পাঁচিল নির্মাণ করে ঘিরে দেয়। শুধু তাই নয়, নিজের সীমানা পাঁচিল দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি; পাশের অন্য মালিকের জমিতে জোরপূর্বক টিনের বেড়া দিয়ে একেবারে ঘরবন্দি করে দিয়েছে জাহাঙ্গীরের পরিবারকে। এই চার মাস ধরে পৌর রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো ফল পাননি জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর বলেন, আমার বাড়ির পেছনে বড় মাঠ রয়েছে। প্রতিদিন রাতেই আমার বাড়ির ওপর দিয়ে লোকজন যাতায়াত করে। তাই আমার বাড়ির পেছনে প্রাচীর দিই। রাতে যাতায়াতে অসুবিধা হওয়ায় পৌরসভার রাস্তায় জোরপূর্বক ইটের পাঁচিল নির্মাণ ও টিন দিয়ে ঘিরে চার মাস আমার পরিবারকে ঘরবন্দি করে রেখেছে ফজলু মিয়া। তিনি বলেন, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিম আক্তারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দামুড়হুদা সুদীপ্ত কুমার সিংহকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তিনি দর্শনা তহশিলদার মো. শাহাবুদ্দিনকে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। দর্শনা তহশিলদার মো. শাহাবুদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ফজলুরকে পাঁচিল ও টিনের বেড়া সরিয়ে দেয়ার কথা বললে তার নির্দেশ অমান্য করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দামুড়হুদা সুদীপ্ত কুমার সিংহ পরিদর্শন করলে ফজলু মিয়া কৌশলে পালিয়ে থাকে। তাকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দামুড়হুদা কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফজলু মিয়া বলেন, জাহাঙ্গীরের বাড়ির পেছনে আমার জমি আছে। তার বাড়ির জমির ওপর দিয়ে আমি হাঁটাচলা করতাম। সে তার বাড়ির সীমানা পাঁচিল দিলে, আমার জমির মধ্যে থাকা পৌর রাস্তায় আমি পাঁচিল দিয়েছি। ফজলু মিয়ার নামে কয়টি মামলা আছে জানতে চাইলে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার ওসি এএইচএস লুৎফুল কবির বলেন, ফজলু মিয়ার নামে ঢাকা মিরপুর থানা, চুয়াডাঙ্গা সদর থানা, দামুড়হুদা মডেল থানাসহ মাদক ও বিশেষ ক্ষমতার আইনের পাঁচটি মামলা আছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দামুড়হুদা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, ঘটনাস্থলে ফজলু মিয়াকে না পেয়ে তাকে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় আমার কর্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য বলে এসছি। দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিম আক্তার বলেন, আমি এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করাসহ লেবার নিয়ে পাঁচিল ও টিনের বেড়া অপসারণ করতে নির্দেশনা দিয়েছি।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More