দেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রি

চুয়াডাঙ্গায় মেহেরপুরসহ সারাদেশে ওএমএস এবং টিসিবির সমন্বয়ে খোলা বাজারে চাল বিক্রির উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ সারাদেশে খোলা বাজারে চাল বিক্রির উদ্বোধন করা হয়েছে। ওএমএস ও টিসিবির সমন্বয়ে এ ৩০ কেজি দরে চাল বিক্রি করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বোধনকালে বক্তারা বলেন, বিভিন্ন উন্নত দেশেও এখন খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে। আমাদের সরকার ভর্তুকি দিয়ে কম মূল্যে চাল বিক্রি করছে। টিসিবির মাধ্যমে সারাদেশে এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য পাচ্ছে। টিসিবির মধ্যে চাল ছিলো না, এখন কার্ডধারীরা চাল পাবে। বক্তারা আরও বলেন, সরকারের একটিই লক্ষ্য, মানুষ যাতে খাদ্য পায়, কষ্টে না থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে ভালোবাসেন। তিনি এই মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছেন। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, খাদ্য বিভাগ সবাই এই কাজের তদারকি করবে। জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিরাও তদারকি করবেন। চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

চুয়াডাঙ্গায় ওএমএস ও টিসিবির সমন্বয়ে খোলা বাজারে চাল বিক্রির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান। জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শারমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম মালিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিম ভূঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা (এফটিএম ইউ) ধীমান সেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এ কে এম শহিদুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমঙ্গীর হান্নান প্রমুখ। চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন, নজরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মাহাব্বুর রহমান, ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) ফকরুল ইসলাম প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৭টি ডিলারের মাধ্যমে ৩৪ মেট্রিকটন চাল ৬ হাজার ৮শ জন নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। টিসিবির কার্ডধারীরা প্রতিমাসে ২ বার ৫ কেজি করে চাল নিতে পারবে ৩০ টাকা কেজি দরে। ওএমএসের আওতায় শুক্রবার ও শনিবার ব্যতিত সপ্তাহে ৫ দিন ৫ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে।

দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, দামুড়হুদায় ওএমএস ও টিসিবির কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে স্বল্পমূল্যে খাদ্য সহয়তা চাল বিক্রির উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে দামুড়হুদা বাজারে পৃথক পৃথক ভাবে ওএমএস ও টিসিবি কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে খোলা বাজারে ৩০টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগম। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী, দামুড়হুদা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেলোয়ার হোসেন, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবীর ইউসুফ, আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজ সেবক সেলিম উদ্দিন বগা, দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হোসেন, আ.লীগ নেতা মসলেম উদ্দীন, যুবলীগ নেতা ভুট্টু, উপজেলা খাদ্য বিভাগের উপ খাদ্য পরিদর্শক সামসুল আলম। এদিকে, একইদিন সকাল ১০টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের মাদরাসাপাড়ায় দামুড়হুদা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ৩০টাকা কেজি মূল্যের চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল কবীর ইউসুফ, আওয়ামীলীগনেতা সেলিম উদ্দিন বগা, ইমতিয়াজ হোসেন, যুবলীগনেতা জামাত আলী প্রমুখ। উপকার ভোগীদের মাঝে খোলা বাজারে ৩০টাকা কেজি দরে ৫ কেজি করে ৪০০ জনের মাঝে এই কর্মসূচির চাল বিক্রি করা হবে।

মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, মেহেরপুরে হত দরিদ্র মানুষের জন্য ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলার ১২টি ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে চাল বিক্রি শুরু হয়।

মেহেরপুর জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, সরকারি ছুটি, শুক্রবার ও শনিবার ব্যতিত সপ্তাহের ৫দিন এ চাল বিক্রি করা হবে। প্রতিটি ডিলার পয়েন্টে প্রতিদিন এক হাজার ১১০ কেজি করে চাল বিক্রি করা হবে। জেলা প্রশাসক ড. মুনসুর আলম খান মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও গাংনী উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এদিকে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে ভোর থেকে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দরিদ্র মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিলো। মেহেরপুর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার জানান, কিছু টাকা সাশ্রয় হবে, তাই সেই ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে চালের জন্য অপেক্ষা করছি। প্রতিদিন ৫ কেজি চালের পরিবর্তে ১০ কেজি করে চাল দিলে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে একদিন পরপর অপেক্ষা করতে হতো না। একই কথা জানালেন একই ওয়ার্ডের আদুরি খাতুন, রাকসানা বেগম ও জলি খাতুন। শহরের ৭নং ওয়ার্ডের আরেক বাসিন্দা দিনমজুর তায়েবুর রহমান জানান, সকল জিনিসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। একদিন কাজ থাকলে আরেকদিন কাজ থাকে না। তাই আমি পাঁচ কেজি চাল নেয়ার জন্য ভোর থেকে অপেক্ষা করছি। এখনও চাল পাইনি। ৫ কেজি চালের পরিবর্তে ১০ কেজি করে চাল দিলে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে একদিন পরপর অপেক্ষা করে এত সময় অপচয় হতো না।

গাংনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, মেহেরপুরের গাংনীতে হত দরিদ্র মানুষের মাঝে ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাংনী পৌরসভার মধ্যে ৩টি ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে চাল বিক্রি শুরু হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শুক্র ও শনিবার ব্যতিত সপ্তাহের ৫দিন এ চাল বিক্রি করা হবে। মেহেরপুর শহরের ৯টি ডিলার প্রতিদিন ১০ মেট্রিক টন এবং গাংনীর তিন ডিলার পয়েন্টে প্রতিদিন ২ মেট্রিক টন করে চাল বিক্রি করা হবে।

সকালে গাংনী উপজেলা খাদ্য গুদামের সামনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গাংনী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি খানম উদ্বোধন করেন। সঞ্চালনায় ছিলেন উপ খাদ্য পরিদর্শক ফাহিম ফয়সাল।

এদিকে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে ভোর থেকে ডিলার পয়েন্টগুলোতে দরিদ্র মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। প্রতিদিন ৫ কেজি চালের পরিবর্তে ১০ কেজি করে দেয়ার অনুরোধ করেছেন উপকারভোগীরা।

মহেশপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ওএমএসের আওতায় ৩০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পৌর এলাকার নওদাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ওএমএস চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ময়জদ্দীন হামীদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মহেশপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ এনামুল হক দুলু।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ৪টি ডিলারের মাধ্যমে মহেশপুর পৌর এলাকায় ৪টি কেন্দ্রে সপ্তাহে ৫দিন সকাল (৯টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত) মাথাপিছু প্রতি পরিবারকে ৫ কেজি করে চাল ৩০ টাকা কেজি দরে  দেয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, সরকারের ন্যায্য মূল্যে (ওএমএস)’র আওতায় অসহায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য ভর্তুকি দিয়ে ওএমএসের চাল খোলাবাজারে বিক্রি করছেন। নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেনো খাদ্য সঙ্কটে না পড়ে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More