হৃদয়ের আদিত্য আবির উদগীরণে বাতাসে ছড়ালো উল্লাস

দৈনিক মাথাভাঙ্গার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে অসংখ্য মানুষের শুভেচ্ছায় সিক্ত

স্টাফ রিপোর্টার: হৃদয়ের আদিত্য রঙের আবির থাকেনি আড়ালে। উথলে হয়েছে উদগীরণ। অসংখ্য পাঠক শুভানুধ্যায়ীর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গার সৃষ্টিসুখের উল্লাসের সুবাস ছড়িয়েছে বাতাসে, আকাশে। দৈনিক মাথাভাঙ্গার ৩১ বছর পেরিয়ে ৩২ বছরে পদার্পণের শুভদিনে গতকাল আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ফুল, মিষ্টিসহ ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মাথাভাঙ্গা পরিবারকে অভিনন্দিত করায় ধন্য। সর্বস্তরের অকৃত্রিম ভালোবাসা পেয়ে দৈনিক মাথাভাঙ্গা সম্পাদক সরদার আল আমিন সকলকে কৃতজ্ঞচিত্তে জানিয়েছেন অভিবাদন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চুয়াডাঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর শুভদিনের সাতসকালেই ফোনে মাথাভাঙ্গা পরিবারকে জানিয়েছেন অভিনন্দন। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল প্যাকেট প্যাকেট মিষ্টি আর প্রাণঢালা ভালোবাসা জানিয়ে করেছেন সিক্ত। চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদল নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা হয়েছে, দৈনিক মাথাভাঙ্গার অগ্রযাত্রা আরও দৃঢ় হোক। সুন্দর সমাজ গঠনে আরও বেশি বেশি করে অবদান রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান খান বাবু। চুয়াডাঙ্গা চেম্বার চেয়ারম্যান ইয়াকুব হোসেন মালিকও জানিয়েছেন শুভেচ্ছা। বলেছেন, পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ সশরীরে মাথাভাঙ্গা পরিবারের সাথে কিছুক্ষণ সময় দিয়েই থামেননি, তিনিও যে মাথাভাঙ্গা পরিবারেরই একজন ছিলেন এবং রয়েছেন তারও স্মৃতির রোমন্থন করে সম্পাদককে শিহরিত করেছেন। সমিতির সভাপতি নাজমুল হক স্বপনও ফোনে জানিয়েছেন অভিনন্দন। চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য মাথাভাঙ্গা পরিবারের অকৃত্রিম বন্ধু মনিরুজ্জামান ও এমরাজ উদ্দীন খোকন, হেলথ এইড’র পক্ষে পরিচালক চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর সাংবাদিক কামরুজ্জামান চাঁদ, সাংবাদিক খাইরুল ইসলাম, মাহফুজ মামুনসহ জেলার সকল সাংবাদিকই দৈনিক মাথাভাঙ্গা পরিবারকে ফুল দিয়ে অথবা ফোনে অভিনন্দিত করেছেন। ভালাইপুর সাংবাদিক ইউনিটের তরফেও করা হয়েছে বিশেষ আয়োজন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে পাঠক তাদের নিজ উদ্যোগে কেটেছেন কেক।

১৯৯১ সাল। তখন ছিলো নির্দলীয় প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ওই সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এম তাজুল ইসলাম। তিনিই দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকা প্রকাশে ঘোষণাপত্র দেন। ছাড়পত্র পেয়ে প্রকাশক মুদ্রাকর সরদার আল আমিন, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিনু একদল টগবগে যুবককে সাথে নিয়ে ওই বছরের ১০ জুন দৈনিক মাথাভাঙ্গা’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে তথ কুসংস্কার মুক্ত অসাম্পদায়িক প্রত্যাশিত সমাজ গঠনের অঙ্গীকারে যাত্রা শুরুর পর পার হতে হয়েছে অনেক বছর। গত দু বছর করোনা ভাইরাসের দাপটে জড়োসড়ো থাকতে হয়েছে বিশ্বকে। মাথাভাঙ্গা পরিবারের ইচ্ছে থাকলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উল্লাস ছড়াতে পারেনি। প্রত্যাশায় বুক বেঁধে ছিলো এবার হয়তো হবে। হলো না। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে সকলের মতো মাথাভাঙ্গা পরিবারও ক্ষতবিক্ষত। তাই আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন থেকে বিরত থেকে হৃদয়ে মাখা উল্লাস নিয়েই আগামীদিনগুলোকে আরও সুন্দর, আরও বলিষ্ঠ করার প্রত্যয়ে পথ চলার অঙ্গীকার ছিলো পুরো পরিবারের মধ্যে। বললেই কি তা হয়? দৈনিক মাথাভাঙ্গা তো পাঠককূলের ভালোবাসারই সুফল। সর্বস্তুরের মানুষের ভালবাসায় যে পরিবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, দ্বিধাহীনভাবে দূর করে কুসংস্কার নামক অন্ধকার সেই পরিবারকে শুভেচ্ছা না জানিয়ে কি পারা যায়? পারেননি অনেকে। তাই বেশিরভাগই ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। কেউ কেউ সশরীরে ফুল নিয়ে, মিষ্টিমুখ করিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামীদিনগুলোতে আরও বেশি বেশি করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিনন্দনে সিক্ত দৈনিক মাথাভাঙ্গা পরিবার অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে সম্পাদক সকলকে জানিয়েছেন সালাম ও শুভেচ্ছা। চেয়েছেন সর্বাত্মক সহযোগিতা। বলেছেন, দৈনিক মাথাভাঙ্গার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে কোন রকম আয়োজন করা হয়নি। শুধু হৃদয়ের উল্লাস পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে যারা নিজ উদ্যোগে অভিনন্দন জানিয়েছেন শুধু তাদের মধ্যে কিছু সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামধাম প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। যারা ম্যাসেজ দিয়েছেন, ওয়াটসঅ্যাপে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের তালিকা অনেক লম্বা। ফলে সকলের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হবে না ভেবে একজনেরও নাম প্রকাশ করা হলো না বলে দুঃখিত।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল রোডের হাছুমা কটেজ, হাছুমা মাল্টিশপ ও হাছুমা হজ এজেন্সির পক্ষে স্বত্বাধিকারী হাসিবুল রেজা শামীম ও ম্যানেজার মাসুদ রানা মাথাভাঙ্গা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে মাথাভাঙ্গা পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এদিকে চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদল’র সভাপতি মো. শাহজাহান খানের নেতৃত্বে সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবিব মামুন, যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সৌরভ আরেফিন শাওন, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক শুকুর আলী, ছাত্রনেতা কামাল, রাজু, আলামিন, রনি, ইমন, সাইফুল, নাসিরুল ও সজিব মাথাভাঙ্গা পরিবারকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকাটি এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় পত্রিকাটি এই জনপদে চাহিদার শীর্ষে অবস্থান করছে। পত্রিকাটির উত্তরোত্তর সাফল্য ও সেই সঙ্গে প্রকাশনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের মঙ্গল কামনা করছি।

ভালাইপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দৈনিক মাথাভাঙ্গার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলেক্ষে ভালাইপুর সাংবাদিক ইউনিটের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে শুভদিন উদযাপন করা হয়। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভালাইপুর মোড়ে আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে শুভদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ইউনিটের সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভালাইপুর বাজার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা শান্তি, চিতলা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম মল্লিক, ভালাইপুর সাংবাদিক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক শারিয়ার রহমান লন্টু, সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, শরিফুল ইসলাম, শামিম রেজা, নাসির শেখ, জাহিদ হাসান, আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। কেক কাটার শুভক্ষণে দৈনিক মাথাভাঙ্গার সাংবাদিক সাইদুর রহমানের ছোট ছেলে রাগীব আহম্মেদ তকী ও দৈনিক মাথাভাঙ্গার খাদিমপুর প্রতিনিধি শরিফুল ইসলামের ছেলে নাইমুল ইসলাম নিহাল অনুষ্ঠানটিকে আরও মনোমুগ্ধ করে তোলে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More