কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপচয় রোধেও প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপের পর এবার উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে কোনো প্রকল্পের জন্য কত শতাংশ টাকা ব্যয় করা যাবে, তা-ও সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে গুরুত্বের ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে এ,বি ও সি এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে দেয়া হয়েছে।

‘এ’ শ্রেণিভুক্ত প্রকল্পগুলো অবশ্যই প্রয়োজন, এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘এ’ শ্রেণির প্রকল্পের পুরো টাকা খরচ করা যাবে। ‘বি’ শ্রেণির প্রকল্পগুলোতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করা যাবে। আর ‘সি’ শ্রেণির প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত থাকবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি ব্যয় কমাতে এসব পদক্ষেপ সঠিক বলেই মনে করি আমরা। সংকট মোকাবেলায় সব ক্ষেত্রেই সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব প্রকল্পে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির প্রয়োজন হয়, সেগুলো বাস্তবায়নে এ মুহূর্তে ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়াই সমীচীন। তবে যেসব প্রকল্প চলমান থাকবে, সেসব প্রকল্প যেন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া দরকার।

দেশে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়, তৈরি হয় দুর্নীতির সুযোগ। কোনো প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা গেলে অনাবশ্যক ব্যয় যেমন হ্রাস পায়, তেমনি হ্রাস পায় জনদুর্ভোগও। কাজেই প্রকল্পে ধীরগতি, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন না হওয়া, বাড়তি সময় নেয়া-এ প্রবণতা রোধ করতে হবে কঠোরভাবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি কেনাকাটার বিষয়েও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেসব কেনাকাটা অবিলম্বে করার দরকার নেই, সেগুলো আপাতত বন্ধ থাকবে। যেমন গাড়ি কেনার বিষয়ে জোরালোভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদেশে প্রশিক্ষণের বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি টাকায় সব ধরনের বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। তবে ক্রয় সংক্রান্ত (প্রকিউরমেন্ট) বিষয়ের অধীন বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তা যাওয়া যাবে। এ ছাড়া বৈদেশিক সাহায্য সংক্রান্ত বিষয়েও বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আছে। অর্থাৎ প্রকিউরমেন্ট বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সরকারি টাকায় বিদেশ যাওয়া যাবে না। এ ছাড়া জ্বালানির ব্যবহার কমাতে মন্ত্রীদের গাড়ি নিয়ে বেশি ছোটাছুটি না করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সব দপ্তরে বিদ্যুতের ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপচয় রোধেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি আমরা। কারণ অনিয়ম-দুর্নীতি ও অপচয়ের কারণে সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। বিশেষ করে আর্থিক খাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থ পাচার রোধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার এখনই সময়।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More