জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস আজ

 

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎস জনশক্তি রপ্তানি। জনশক্তি রপ্তানিতে আমাদের পিছিয়ে পড়ার একটি বড় কারণ হচ্ছে দক্ষ জনশক্তির অভাব। চরম এ বাস্তবতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতি (বিএসটিডি) ২৭তম জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস আজ।

দেশের বাইরে বাংলাদেশের জনশক্তির সুনাম রয়েছে। কিন্তু বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তুলনামূলক বিলম্বে। যদিও উচ্চশিক্ষিত স্নাতক-স্নাতকোত্তরদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি এখনও পর্যন্ত তেমন একটা গুরুত্ব পায়নি। বলার অবকাশ রাখে না যে, দক্ষতা বাড়াতে ২০১১ সালে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতিমালা করা হয়েছে। শুধু বিদেশেই নয়, দেশের ভেতরেও বেশ কিছু পেশায় প্রচুর বিদেশি নিয়োজিত। পর্যাপ্ত দক্ষতা নিশ্চিত করতে পারলে এসব পেশায় স্বদেশিদের নিয়োগ করা সম্ভব। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় শিক্ষিত ও দক্ষতাসম্পন্নদের কদর বাড়ছে। সব কর্মক্ষেত্র সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও দক্ষ জনশক্তি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে নিতে পারে। বিকাশমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাই জনশক্তি গড়ে তোলা অতিব জরুরি। জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানও করতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার পরিবর্তন ও দক্ষতার দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। এর পাশাপাশি জনশক্তি রপ্তানির জন্য নতুন নতুন বাজারও খুঁজে বের করতে হবে।

আজ জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস। এ দিবস  উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন দর্শন ও সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে সফলভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সবকটি লক্ষ্য অর্জনে আমরা সমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবেও বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ।’ তিনি বলেন, ‘বিএসটিডি দীর্ঘকাল ধরে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রশিক্ষণ বিষয়ক বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্ভাবন, গবেষণা পরিচালনা, সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে সমন্বয়মূলক কাজ ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ আয়োজন করে রাষ্ট্রের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সুপ্রশিক্ষিত, দক্ষ ও নিবেদিত কর্মীবাহিনী ছাড়া কোন চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। আর চৌকশ ও পেশাদার কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার প্রধান মাধ্যম হলো প্রশিক্ষণ। এ অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২৭তম জাতীয় প্রশিক্ষণ দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফল হোক। আমরা চাই, দক্ষ জনশক্তিগড়ে তুলতে বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন সমিতির কার্যক্রম আরও বেগবান হোক।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More