ভাতিজার কোদালে কোপে বৃদ্ধ চাচা নিহত

বাজার গোপালপুর প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের যাদবপুর গ্রামে ভাতিজার কোদালের আঘাতে বৃদ্ধ চাচা আওলাদ হোসেন (৭২) নিহত হয়েছে। গ্রামের মাঠে দুই দাগে ১০ বিঘা জমির মধ্যে ১০ কাঠা জমির শরিকানা মালিকের দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জের ধরে গতকাল সোমবার দুপুরে ভাতিজা শহিদুল ইসলাম বিরোধপূর্ণ জমিতে একা পেয়ে চাচা আওলাদ হোসেনকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গুরুতর আহত আওলাদকে প্রথমে ডাকবাংলা বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নেয়ার জন্য পরামর্শ দিলে সেখানে নেয়ার পথে মারা যান আওলাদ হোসেন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিব চক্রবর্তী জানান, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন তিনি। নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘাতক ভাতিজা স্ব-পরিবারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল বাসার ও ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. সোহেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার নিহতের লাশ ময়না তদন্তের পর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত সৈয়দ আলী ম-লের দুই ছেলে। বড় ছেলে নিয়ামত আলী ম-ল ও ছোট ছেলে নিহত আওলাদ হোসেন ম-ল। তারা দুই ভাই পিতার ওয়ারেশ সূত্রে ভালো জায়গা জমি পেয়েছিলেন। এর মধ্যে বড় ছেলে নিয়ামত আলী প্রথম থেকেই কৃষি কাজ করতে থাকেন। তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। বর্তমান সকলেই বিবাহিত। এই বড় সংসার চালাতে নানা অভাবে নিয়ামত আলী বেশির ভাগ জমিই বিক্রি করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে নিহত আওলাদ হোসেন কৃষি কাজের পাশাপাশি পাশে ডাকবাংলা বাজারে দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর সার কীটনাশকের দোকান দিয়ে ব্যাবসা করে আসছেন। তার এক ছেলে আজমুল হক ওরফে সাব্দুল ও তিন মেয়ে রোজিনা খাতুন, রুসিয়া খাতুন ও সেলিনা খাতুন। এতে আওলাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা আসে এবং অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হন। তিনি ডাকবাংলা বাজারসহ গ্রামের মাঠে বেশ কয়েকবিঘা জমি কেনেন। একই সাথে তার বড়ভাই নিয়ামত আলী যে সকল জমি বিক্রি করেছেন তার অধিকাংশই তিনি কিনেছেন। গত বছর চারেক আগে নিয়ামত আলী মারা যাবার পর চাচা আওলাদ হোসেনের সাথে ভাতিজা শহিদুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম ওরফে জহর আলী ও মতিয়ার রহমান ওরফে মুহিতের সাথে জায়গা জমির শরিকানা মালিক নিয়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গ্রামে শালিস বৈঠক, মেম্বার, চেয়ারম্যান বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ করলেও তারা বার বার হেরে গেছে। এতকিছুর পরও তাদের দাবি গ্রামের দাইড় মাঠে দুই দাগে ১০ বিঘা জমির মধ্যে তাদের ১০ কাঠা জমি তাদের। চাচা আওলাদ হোসেন তার পিতাকে ফাঁকি দিয়ে রেকর্ড করে নিয়েছেন। এমন অভিযোগ নিয়ে গ্রামে আবারও সালিস বৈঠক বসার প্রস্তুতি চলছিলো। এরই মধ্যে গতকাল সোমবার দুপুরে এমন মর্মান্তিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের পুত্রবধূ হামিদা খাতুন জানান, তার শ্বশুর সকালে করোনার টিকা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। টিকা দিতে না পেরে দুপুরের আগেই বাড়িতে ফিরে আসে এবং বাড়ির নিকট ওই জমিতে কাজ করতে যায়। পরে শুনেছি আমার শ্বশুরকে শহিদুল কোদাল দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। পরিকল্পিত এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটনো হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. সোহেল রানা বলেন, নিহতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More