চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী বাজারপাড়া থেকে গ্রেফতাকৃত তিন সদস্যকে আদালতে সোপর্দ

বেগমপুর প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার হিজলগাড়ী বাজারপাড়া থেকে গ্রেফতারকৃত প্রতারকচক্রের ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা। হাতেনাতে গ্রেফতারকৃত প্রতারকচক্রের তিন সদস্যকে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। সেই সাথে টাকা ও অজ্ঞাত নারীকে নিয়ে সটকেপড়া জীবননগর উথলীর তাজুলকে খুঁজছে পুলিশ। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় বাসাভাড়া নিয়ে এ ধরণের অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে বলে এলাকাসূত্রে জানাগেছে।
জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের হিজলগাড়ী বাজারপাড়ার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে শান্তর বাড়িতে সপ্তাখানেক আগে বাসাভাড়া নিয়ে ওঠেন ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের বিশ্বাস পাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে হাসানুজ্জামান ওরফে হাসান ও তার স্ত্রী তাজনাহার ওরফে হাফিজা। হাফিজা বেগমপুর ইউনিয়নের আকন্দবাড়িয়া তমালতলার ভিকু ম-লের মেয়ে। পরে হাসানের চাচাতো ভাই কোটচাঁদপুর ছাবদালপুর গ্রামের আজির বক্সের ছেলে এমদাদুুল হক মিলন একই বাসায় অবস্থান নেন। এদিকে পূর্বপরিচয়ের সূত্রধরে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হাসানের বাড়িতে বেড়াতে যান দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর বাজারপাড়ার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে বাবু শেখ (৩৯) ও মকবুল হোসেনের ছেলে হিরক আলী (৪০)। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হাসান ও তার স্ত্রী তাজনাহার জীবননগর উথলীর জয়নাল আবেদীনের ছেলে তাহাজুল ওরফে তাজুলের মাধ্যমে বাড়িতে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে আগেভাগেই এনে মজুত রাখেন। বাবু ও হিরক একটি রুমে অবস্থান নিলে অজ্ঞাত ওই নারীকে রুমের মধ্যে ঢুকিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি তোলে প্রতারকচক্র। ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা দাবি করে তারা। সম্মানের ভয়ে পড়ে বাবু ও হিরক ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করে তাদের হাতে তুলে দেন। টাকা হাতে পেয়ে মেয়েটিকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন তাজুল। মারধর খেয়ে ও টাকা খুয়ে বাবু ও হিরক হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশের নিকট গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন। রাত ৮টার দিকে হিজলগাড়ী ক্যাম্প পুলিশ ভাড়াটিয়া ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করেন হাসান (৩৪), তার স্ত্রী তাজনাহার ওরফে হাফিজা খাতুন (৩৫) ও মিলনকে (৩২)। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী বাবু শেখ বাদি হয়ে ঘরের মধ্যে আটিকিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে আপত্তিকর ছবি তোলা এবং তা প্রকাশ করার হুমকি দেয়ার অভিযোগে প্রতারকচক্রের ৪ সদস্যের বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে পুলিশ গতকাল বুধবার গ্রেফতারকৃত তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করেছে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবু ও হিরক তাদেরকে পূর্ব থেকেই চেনে ও জানে। জেনেবুঝেই মঙ্গলবার তারা ওই বাড়িতে গেছে। যে কোনো কারণে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এ ব্যাপারে মামলার বাদি বাবু শেখ বলেন, আমরা তাদেরকে চিনি। তবে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই বাড়িতে যায়নি। বন্ধু হিসেবে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলা মাত্র। মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই তাপস সরকার বলেন, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আর তদন্তে সবকিছু উঠে আসবে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More