চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ৫ হাটের ইজারা সম্পন্ন : আজ থেকে নতুন কার্যক্রম শুরু

জরাজীর্ণ শেড ও দখলদারিত্বে বড়বাজারের সুনাম মøান : ক্রেতারা ঝুঁকছেন সুপারশপে

স্টাফ রিপোর্টার: চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অধীনে মোট ৬টি হাটের মধ্যে পাঁচটি হাটের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা বছর হতে আগামী ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের পাঁচজন ইজারাদারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে, হাটের রাস্তার সংস্কার, শেড সংস্কার ও রাস্তার দু’পাশে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাপটে বড়বাজারের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ফলে, কেনাকাটার জন্য বড়বাজার থেকে সুপারশপের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পাঁচটি হাটের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা চুয়াডাঙ্গা মল্লিকপাড়ার মো. নাজিম উদ্দিন বাড়বাজারের হাটটি ইজারা মূল্য ২২ লাখ ৫ হাজার টাকায় পান। এরসাথে যোগ হয়েছে ইজারা মূল্যের ওপর শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট, শতকরা ১০ ভাগ জামানত, আয়কর বাবদ শতকরা ১০ ভাগ টাকা জমা দিয়ে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০ টাকা। এ টাকা সাতদিনের মধ্যে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবে জমার পর চুক্তিপত্র সম্পাদন হয়েছে। একইভাবে প্রতিটি হাটেই ইজারার টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা রেলবাজার হাটটি ইজারা পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গা মসজিদপাড়ার মো. সাদ্দাম। তিনি মোট এক লাখ ৩৪ হাজার টাকায় হাটটি পেয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের ইজারা পেয়েছেন ঝিনাইদহ বাসস্ট্যান্ডপাড়ার মল্লিক রাহাত হাসান। তিনি পেয়েছে মোট ১০ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫০ টাকায়। চুয়াডাঙ্গার কেদারগঞ্জ বাজারের ইজারা পেয়েছেন বুজরুকগড়গড়ির হুসাইন মোহাম্মদ আমির। তিনি হাটটি পেয়েছেন মোট এক লাখ ৯ হাজার ৩৫০ টাকায়। চুয়াডাঙ্গার শ্মশানতলার সলির হাটটি ইজরা পেয়েছেন বাগানপাড়ার বিপুল হাসান। তিনি মোট ১৯ হাজার ৯৮০ টাকায় হাটটি পেয়েছেন। তবে, চুয়াডাঙ্গার পৌরসভার পশু জবেহ খানার ইজারার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের জুন মাসে। সেকারণে আগামীতে এর দরপত্র আহ্বান করা হবে। অপরদিকে, বিগত বাংলা ১৪৩২ সালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অধিনে মোট ছয়টি হাটের ইজারা দেয়া হয়েছিলো। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের হাটটি মল্লিকপাড়ার নাজিম উদ্দিন ২৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার রেলবাজারে হাটটি পৌর কলেজপাড়ার আরিফ মোহাম্মদ শিপ্লব এক লাখ ৪৫ হাজার ১৩০ টাকায় পেয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি মালিক রাহাত হাসান ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার শ্মশানপাড়ার সলির হাটটি ইজারা পেয়েছিলেন বাগানপাড়ার বিপুল হাসান। তিনি ২২ হাজার ৭৫০ টাকায় হাটটি ইজারা পেয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গার পশু জবেহখানা বাগানপাড়ার বিপুল হাসান এক লাখ ৪৬ হাজার ৯০০ টাকায় পেয়েছিলেন। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল

র‌্যাম্প ইজরা পেয়েছিলেন বাগানপাড়ার মো. খোকন। তিনি ৮৪ হাজার ৫০০ টাকায় ইজারা পেয়েছিলেন। চুয়াডাঙ্গা সিনেমা হলপাড়ার জোনারুল ইসলাম ও গুলশানপাড়ার গোলাম ফারুক বলেন, বড়বাজারে হাটটি বর্তমানে তার অতীতের সুনাম হারাতে বসেছে। রাস্তার দু’পাশে অবৈধ মুদি, সবজি ও ফল ব্যবসায়ীরা রাস্তা দখল করে বাজারে চলাচলকারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। সেকারণে তাদেরকে অবিলম্বে সেখানে অপসারণ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে পৌর কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী মো. দারুল বলেন, মুরগি শেডটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। সেকারণে আসছে ঈদের পর ব্যসায়ীরা নিজ উদ্যোগে শেডটি সংস্কারের চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার হাটের ইজারাদার নাজিম উদ্দিন বলেন, ১৪৩২ সালে যে ধরণের খাজনা ছিলো, নতুন ১৪৩৩ সালেও একই ধরণের রেটে খাজনা নেয়া হবে। নতুন করে খাজনা বৃদ্ধি করা হবে না। রাস্তার দু’পাশে সবজি ও কলা ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর ব্যবসা করায় বাজারের আসা ব্যক্তিদের পথ চলতে সমস্যা হয়। এ বিষয়টি পৌরসভার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও ডিডিএলজি (স্থানীয় সরকার বিভাগ) শারমিন আক্তার বলেন, হাটের শতকরা ১৫ ভাগ টাকা খরচ করার বিধান আছে। পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সম্প্রতি বদলী হয়েছেন। নতুন একজন যোগদান করলেই বড়বাজার হাটের রাস্তা, শেড ও অন্যান্য বিষয়ে সরেজমিন দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More