জীবননগর হরিহরনগরে বকুল মিয়া স্মৃতি ফুটবলের ফাইনাল খেলায় বক্তাগণ

সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরণের আয়োজন আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে

জীবননগর ব্যুরো: জীবননগর উপজেলার হরিহরনগরে বকুল মিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে হরিহরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ফাইনালে কুষ্টিয়া পোড়াদহ একাদশ ট্রাইব্রেকারে ৩-২ গোলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ও চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্স আপ দলের অধিনায়কের হাতে ট্রফি তুলে দেন সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার ও খুলনা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান। বক্তাগণ সকলেই বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরণের জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন আমাদেরকে দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।
সীমান্ত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মালেক মোল্লার সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাজি আলী আজগার টগর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলায় যুবকদের মনোযোগী হতে হবে। ক্রীড়ার প্রচলন না থাকায় তরুণ-যুবকেরা বিপথগামী হয়ে পড়ছে। মাদকের ক্যারিয়ার কিংবা মাদকাসেবী হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, প্রয়াত বকুল মিয়া এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নানামুখি কর্মকান্ড গ্রহণ করেছিলেন। সুস্থ ধারার সমাজ গঠনে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতি ও খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরণের আয়োজন আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি খুশি হয়ে চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ ও ম্যান অব দ্যা ম্যাচ খেলোয়াড়দের আর্থিকভাবে পুরস্কৃত করেন।
অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমার এই অঞ্চলের মানুষের সাথে ওতোপ্রোতভাবে মেশার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়াত বকুল মিয়া এলাকার একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে সকলের কাছে সমাদৃত ছিলেন। খেলায় জয়-পরাজয় থাকবেই। আমাদেরকে সেটা মেনেই আরও অনুশীলনে মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা পিবিআই পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, গ্রামীণ জনপদে ফুটবলের এমন আয়োজন দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। এ ধরণের খেলাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা প্রয়োজন। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আওয়ামী লীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মনজু বলেন, সরকার খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ক্রীড়ার আয়োজন করে আসছে। ব্যক্তিগতভাবে এ ধরণের আয়োজনকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে এ ছাড়াও জীবননগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ অমল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ইশা, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফেরদৌস ওয়াহিদ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দীন, সীমান্ত ইউপি চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন ময়েন ও প্রয়াত বকুল মিয়ার ছেলে নারিশ পোল্ট্রি ফিডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কুতুবউদ্দিন একরাম বাবু প্রমুখ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর সীমান্ত ইউনিয়ন হরিহরনগরে বকুল মিয়া স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। টুর্নামেন্টে ৮টি জেলা থেকে ৮টি দল অংশগ্রহণ করে। গতকাল অনুষ্ঠিত ফাইনাল খেলায় কুষ্টিয়া পোড়াদহ ফুটবল একাদশ ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ফুটবল একাদশ অংশগ্রহণ করে। চরম প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ খেলাটি শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবে শেষ হলে মিমাংসার জন্য তা ট্রাইব্রেকারে গড়াই। ট্রাইব্রেকারে পোড়াদহ একাদশ ৩-২ গোলে জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো আয়োজিত বকুল মিয়া স্মৃতি ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে তুললো।

Comments (0)
Add Comment