দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: গত ২৪ ঘণ্টায় আগের দিনের তুলনায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে। সোমবার ভাইরাসে সংক্রমিত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মঙ্গলবার এই সংখ্যা ৪১ জন হয়। এটি ২৩ দিনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চসংখ্যক মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে সর্বশেষ গত ৯ মে একদিনে এর চেয়ে বেশি ৫৬ জনের মৃত্যু তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। এছাড়া সোমবার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৭১০ জনের। মঙ্গলবার এটি বেড়ে ১ হাজার ৭৬৫ জন শনাক্ত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৬৬০ জন হয়েছে। একই সময় নতুন করে ১ হাজার ৭৬৫ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় মোট রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ৮ লাখ ২ হাজার ৩০৫ জন হয়েছে। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার সকাল আটটা থেকে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ১৮ হাজার ৫৩৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই বাছাই শেষে ৫০৩টি সরকারি-বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে ১৮ হাজার ২৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ১ হাজার ৭৬৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। দেশে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৩টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৮টি। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ১০ হাজার ১১৫টি। এদিকে গত একদিনে দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ১ হাজার ৭৭৯ জন। এ নিয়ে আক্রান্ত পরবর্তী মোট সুস্থ হলেন ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৫১ জন।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তির ভাষ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত ৪১ জনের মধ্যে পুরুষ ২৬ ও নারী ১৫ জন। এ সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১০ জন এবং তিনজন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দেশে এ পর্যন্ত করোনয় মৃত ১২ হাজার ৬৬০ জনের মধ্যে ৯ হাজার ১৩৯ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৬২১ জন নারী।
করোনায় সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ২৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের এবং একজন শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ছিলেন। বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুসারে মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৫, চট্টগ্রামে ১১, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৪, বরিশালে ২, সিলেট ৩ জন মারা যান।
গত বছর ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এ বছরের ৩১ মে তা ৮ লাখ পেরিয়ে যায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ মে তা ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যুর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
এদিকে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় ৫ এপ্রিল থেকে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা এখনো বহাল। এই বিধিনিষেধে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত সীমান্তবর্তী ১৫টি জেলায় রোগী দ্রুত বাড়ছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, এখনই সতর্ক হয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে পরিস্থিতি আবার খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More