মুজিবনগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ আগত পর্যটকরা

মুজিবনগর থেকে শেখ সফি: ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিনোদনের জন্য ঐতিহাসিক মুজিবনগরে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামছে। মহামারী করোনার প্রভাব না থাকায় প্রতিবারের মতো এবারও দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের স্বাধীনতার সুতিকাগার দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক মুজিবনগর। ঈদ এলেই ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া নানা প্রান্তের মানুষগুলো এখন ভীড় জমাচ্ছেন বাঙালীর গর্বের সেই আম্রকাননে। ঐতিহাসিক সেই স্থানের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে এবং নিজেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে ঈদ উৎসবকে আরো নিবিড়ভাবে উপভোগ করেছেন তারা। সপ্তাহ ধরে চলে এই ঈদ আনন্দ। মুজিবনগরসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত এখন। মুজিবনগর কমপ্লেক্সে পর্যটকদের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই থাকছে না বিশাল আম্রকাননে। ঈদোত্তর বিনোদনের জন্য মেহেরপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোরদের ভিড় জমছে মুজিবনগরে কমপ্লেক্সে। এজন্য সংযোগ সড়কগুলোতে মানুষ ও পরিবহনের ভিড়ে দীর্ঘ যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদের পরদিন থেকে লোকজনের সমাগম চলছে। চলবে আরো ২-৩ দিন।
স্বাধীনতার সুতিকাগার মেহেরপুরের মুজিবনগর। বিনোদন পিয়াসীদের আকর্ষণের অন্যতম যায়গা ঐতিহাসিক মুজিবনগর কমপ্লেক্স। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে একদিনের জন্য হলেও বিনোদনের প্রত্যাশায় বাস-ট্রাক, মোটরসাইকেল, নছিমন, করিমন, আলগামন, আলমসাধুযোগে মুজিবনগরে ভীড় জমাচ্ছে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা। স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও মাইক, ব্যান্ড ও ভেপু বাজিয়ে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমছে মুজিবনগরে। তাই ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখরিত মুজিবনগর কমপ্লেক্স। মুজিবনগরে বিশাল আম্রকানন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র, স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন মূরাল, সরকারি শিশু পরিবার, ছয়স্তর বিশিষ্ট গোলাপ বাগান, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে ঘুরে দেখছেন দর্শনার্থীরা। সীমান্তে গিয়ে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া দেখছেন তারা। শিশু কিশোররা দর্শন করছে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা মনোরমা পার্ক ও চিড়িয়াখানা। ঈদোত্তর বিনোদনে মুজিবনগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ এখানে আগত পর্যটকরা।
কুষ্টিয়া থেকে আগত যুবক রাজু জানান, দুই বছর পর উন্মুক্তভাবে ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে ভালোলাগার কথা জানান দর্শনার্থীরা। ভালোলাগার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে খুশির কথাও বললেন রাজু। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে স্বপরিবারে বেড়াতে এসেছে মুজিবনগরে। মুজিবনগর শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এখন বিশ্বের একটি ঐতিহাসিক স্থান। এই স্থানটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে লোক ছুটে আসে এখানে। একটি দিনের জন্য এখানে এসে ভিন্ন ধরনের আমেজ পান তারা।
মাগুড়া জেলার কুমারখালী উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানালেন, বিনোদনের জন্য স্ব-পরিবারে এখানে ঘুরেতে এসেছি। সন্তানদের বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সেক্টর ভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে পারছি। তাই খুব ভাল লাগছে।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার হাবিব জানালেন, ট্রাক নিয়ে মুজিবনগরে আনন্দ বিনোদনে এসেছি। এখানে আমার প্রথম আসা। এতদিন মুজিবনগর কমপ্লেক্সের কথা শুনেছি আর আজ উপভোগ করছি। এখানে খুবই ভাল লাগছে।
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থেকে আসা শিক্ষার্থী মতিয়ার জানান, ২০টি মোটর সাইকেল নিয়ে প্রায় ৫০ জন বন্ধু মুজিবনগরে বেড়াতে এসেছি। এখানে পর্যাপ্ত টয়লেট, পানির ব্যবস্থা, বসার যায়গা থাকা দরকার। শিশুদের বিনোদনের জন্য কিছু খেলনার ব্যবস্থা রাখা জরুরী। তিনি আরো মনে করেন মুজিবনগরের নৈসর্গিক সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি করা দরকার।
ঢাকা থেকে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার নানার বাড়ী ঈদ করতে এসেছেন সৈকত। সকালে তিনি মুজিবনগরে বেড়াতে এসেছেন। তিনি বললেন, শুনেছি ঐতিহাসিক মুজিবনগরের কথা। আজ চোখে দেখলাম। ভারত সীমান্ত ঘেষা মুজিবনগরে বিনোদনের জন্য এত লোক সমাগম হয়?
কুষ্টিয়ার মামুন হোসেন চাকরী করেন সিলেটে। তিনি বলেন, দীর্ঘ দুই বছর পর ঘরবন্দি ঈদ কাটিয়ে একটু বিনোদনের জন্য ছুটে এছেছি মুজিবনগরে। আজ স্বস্ত্রীক মুজিবনগরে এসেছি। এখানে এসে বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রীসভা গঠন ও শপথের স্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ভিত্তিক মানচিত্র দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ছি। এটাইতো আমাদের স্বাধীনতার সূতিকাগার। এখানে এসে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাস জানতে পারলাম। খুব ভাল লাগছে।
মেহেরপুর শহরের সরকারি কলেজপাড়ার জসিম ঢাকায় চাকরী করেন। ঈদে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার কলেজ পড়–য়া স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মুজিবনগর কমপ্লেক্সে বিনোদনের জন্য এসেছেন। তিনি বললেন, স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এখানে ঘুরতে খুবই ভাল লাগছে তার।
মুজিবনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ ওমর ফারুক জানালেন, ঈদ পরবর্তী বিনোদনের জন্য প্রতি ঈদের পরদিন থেকে ৪-৫ দিন মুজিবনগর কমপ্লেক্সে লোকসমাগম হয়ে থাকে। তবে এবছর লোকজনের উপস্থিতি অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। বিনোদন পিপাসু লোকজন মেহেরপুর-মুজিবনগর ও দর্শনা-মুজিবনগর সড়ক হয়ে মুজিবনগরে প্রবেশ করছেন। তাদের বহনকারী বাস-ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক ও মোটর সাইকেল এবং নছিমন, করিমন, আলগামন ও আলমসাধুসহ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যানে উপজেলার কেদারগঞ্জ মোড় থেকে মুজিবনগর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার রাস্তায় এক ধরনের যানজটের সৃষ্টি করছে।
মুজিবনগর কমপেক্সে আনসার হেড আলী হোসেনের (এপিসি) নেতৃত্বে পাহারায় আছেন ৭৫ জন আনসার সদস্য। ঈদ পরবর্তী অতিরিক্ত লোক সমাগমে যে কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য এখানে নজরদারী রেখেছে মুজিবনগর থানা পুলিশ। মুজিবনগর কমপেক্সে আনসার হেড আলী হোসেন (এপিসি) বলেন, এপর্যন্ত কোনোপ্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এখানে ঘটেনি।

 

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More