করোনা নিয়ে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই

সম্পাদকীয়

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বলা দরকার, সম্প্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেলো, বিশ্বজুড়ে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। বৃহস্পতিবার সকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৫৫ জন। অর্থাৎ তার আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে অর্ধ শতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৮ জনে। একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮০ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দুই হাজার। এ সময়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ব্রাজিল। এর পরই রয়েছে তাইওয়ান, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ফ্রান্স।

আমরা বলতে চাই, করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার তথ্য যখন আবারও সামনে আসছে, তখন এই বিষয়টি এড়ানো যাবে না। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে পুরো পৃথিবী যেমন বিপর্যস্ত হয়েছিল, তেমনি দেশেও নানা ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশে ভীতিপ্রদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। এর প্রভাবে প্রায় প্রত্যেকটি খাতে নেতিবাচক পরিস্থিতি পরিলক্ষিত হয়েছে, মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতাও বিঘিœনত হয়েছে। ফলে আবার যখন করোনার সংক্রমণ বাড়ছে- তখন করোনা মোকাবেলায় যেমন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সতর্ক থাকা জরুরি, তেমনি টিকার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে বিশ্ব নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা।

আমলে নেয়া দরকার, করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে বিশ্ব। কিন্তু আবার যখন করোনা বাড়ছে তখন সর্বাত্মক পরিস্থিতি আমলে নেওয়ার বিকল্প নেই। মানুষ যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে সেই সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃত্বের সামগ্রিক বিষয়ে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও) করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

আমরা বলতে চাই, করোনা নিয়ে কোনো অবহেলার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সব ধরনের পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে বিশ্ব নেতৃত্বকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্টদেরও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। এমন বিষয় সামনে এসেছে, দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজধানী ঢাকায় ফের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে করোনা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন তাদের আশঙ্কা, বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগী নমুনা পরীক্ষা না করায় প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়ানোর কারণে তাদের অজ্ঞাতসারেই আরও অনেকে সংক্রমিত হচ্ছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দেখামাত্র নমুনা পরীক্ষা করানোর তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে টিকা নেয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ সামনে এসেছে। আমরা মনে করি সার্বিক বিষয় আমলে নিয়ে দেশের সংশ্লিষ্টদেরও উদ্যোগী হতে হবে।

সর্বোপরি বলতে চাই, বিশ্বে করোনা বাড়ছে এটি এড়ানোর সুযোগ নেই। ফলে সামগ্রিক এ পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অকারণে ঘোরাফেরা না করা, মাস্ক পরাসহ প্রয়োজনীয় সচেতনতাও জরুরি। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েছে এটাকে বিবেচনায় রেখে করোনা মোকাবেলায় সর্বাত্মক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। আবার করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, এই প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই অশনি সংকেত। সঙ্গত কারণেই করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য।

এছাড়া, আরও পড়ুনঃ

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More